Meheruba Mahbub — Global Header Mega Menu

বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স: একটি সম্পূর্ণ গাইড

by rtahmidtahmidur | May 2, 2026 | Bangladesh Law, Business Law | 0 comments

বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স (আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স): একটি সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সফল হতে হলে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স (Import Export License) প্রাপ্তি। এই লাইসেন্স ছাড়া বাংলাদেশে কোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করা আইনত সম্ভব নয়। ব্যারিস্টার মেহেরুবা মাহবুব, বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত আইনি বিষয়ে গভীর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা রাখেন। এই নিবন্ধে, আমরা বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খরচ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স কি? (What is Import Export License?)

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্য দুই ধরনের প্রধান লাইসেন্স প্রয়োজন হয়: আমদানি নিবন্ধন সনদ (Import Registration Certificate – IRC) এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (Export Registration Certificate – ERC)।

  • আমদানি নিবন্ধন সনদ (IRC): এটি এমন একটি লাইসেন্স যা আমদানিকারকদের বিদেশি পণ্য বাংলাদেশে আনার অনুমতি দেয়। আইআরসি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আমদানি করতে পারে না। সাধারণত, আইআরসি-এর ক্ষেত্রে আমদানির একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা থাকে, যা আমদানিকারকের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে।
  • রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ERC): এটি রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশ থেকে বিদেশি বাজারে পণ্য পাঠানোর অনুমতি দেয়। ইআরসি-এর ক্ষেত্রে সাধারণত রপ্তানির পরিমাণের উপর কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না, অর্থাৎ একজন রপ্তানিকারক সারা বছর যেকোনো পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে পারেন।

উভয় লাইসেন্সই আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (Chief Controller of Imports and Exports – CCIE) কর্তৃক জারি করা হয় এবং এগুলি দেশের বাণিজ্য নীতি ও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি

বাংলাদেশে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে অনেকটাই সহজ এবং অনলাইন-ভিত্তিক হয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে এর প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:

  1. অনলাইনে আবেদন: প্রথমে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ওয়েবসাইটে (http://ccie.gov.bd/) গিয়ে একটি ইউজার আইডি তৈরি করতে হবে। আইডি তৈরির জন্য আপনার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এবং একটি পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হবে।
  2. ফরম পূরণ: ইউজার আইডি তৈরি এবং ভেরিফিকেশনের পর লগইন করে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী IRC অথবা ERC ফরমের সকল তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
  3. ডকুমেন্ট আপলোড: পূরণকৃত ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র পিডিএফ (PDF) আকারে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
  4. ফি পরিশোধ: অনলাইনে পেমেন্ট অপশনে গিয়ে অনলাইন ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
  5. ডকুমেন্ট সংগ্রহ: পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর ডাউনলোড কপি সহ সকল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এবং অন্যান্য আইনি সহায়তার জন্য আমাদের ব্লগ সেকশনটি দেখতে পারেন।

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলি প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি: আবেদনকারী এবং কোম্পানির সকল পরিচালকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি।
  • পাসপোর্ট এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: যদি কোম্পানিতে কোনো বিদেশি পরিচালক থাকেন, তবে তাদের পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA) কর্তৃক ইস্যুকৃত ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ফটোকপি প্রয়োজন হবে। যদি বিদেশি পরিচালক বাংলাদেশে অবস্থান না করেন বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা না থাকে, তবে এই মর্মে একটি আন্ডারটেকিং জমা দিতে হবে।
  • ট্রেড লাইসেন্স: ব্যবসার অনুমতিপত্র হিসেবে একটি বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকা আবশ্যক।
  • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট: ট্রেড লাইসেন্সের ঠিকানায় অবস্থিত একটি ব্যাংক থেকে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। ব্যবসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে কিছু লেনদেন করার পর ব্যাংক থেকে এই সার্টিফিকেট চাওয়া যেতে পারে।
  • টিন সার্টিফিকেট: বর্তমানে অনলাইনে সহজেই ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট তৈরি করা যায়, যার জন্য কোনো ফি প্রয়োজন হয় না।
  • স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন থেকে বৈধ মেম্বারশিপ: আমদানি বা রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনার জন্য যেকোনো একটি স্বীকৃত ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদ এবং সদস্য সনদ গ্রহণ করতে হবে।
  • ভ্যাট সার্টিফিকেট: উৎপাদনশীল বা সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট (VAT) সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। অনলাইনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব।
  • আন্ডারটেকিং: যদি কোম্পানিতে বিদেশি পরিচালক বাংলাদেশে অবস্থান না করেন বা বিডা কর্তৃক ওয়ার্ক পারমিট ভিসা না থাকে, তবে এই মর্মে একটি আন্ডারটেকিং দিতে হবে।
  • জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট: যদি একাধিক পরিচালকের মধ্যে জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট থাকে, তবে এর ফটোকপি জমা দিতে হবে।
  • লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র: লিমিটেড কোম্পানির আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স এর জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (Memorandum of Association), আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন (Articles of Association), ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট (Incorporation Certificate) এবং ফরম-১২ (Form-12) ইত্যাদি প্রয়োজন হবে।

আমাদের প্র্যাকটিস এরিয়াস পেজে আপনি আমাদের অন্যান্য আইনি পরিষেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পেতে কত সময় লাগে?

সাধারণত, যদি আপনার আবেদন যথাযথভাবে পূরণ করা হয় এবং সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকে, তবে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পেতে ৭ থেকে ১০ কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। তবে, যদি আবেদনে কোনো ত্রুটি থাকে বা কোনো কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সেগুলো চাওয়া হবে এবং সেক্ষেত্রে লাইসেন্স পেতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই, আবেদন করার পূর্বে সকল কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স এর ফি

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স এর ফি বিভিন্ন ক্যাটাগরি এবং আমদানির সীমার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। প্রতি বছর সরকার এই ফি পরিবর্তন করতে পারে। নিচে আমদানি লাইসেন্সের ফি এর একটি সারণী দেওয়া হলো (তথ্যসূত্র: counselslaw.com):

ক্রমিক আমদানি সীমা নিবন্ধন ফি
৫,০০,০০০/- পর্যন্ত ৫,০০০/-
৫,০০,০০১/- থেকে ২৫,০০,০০০/- পর্যন্ত ১০,০০০/-
২৫,০০,০০১/- থেকে ৫০,০০,০০০/- পর্যন্ত ২৪,০০০/-
৫০,০০,০০১/- থেকে ১,০০,০০,০০০/- পর্যন্ত ৪০,০০০/-
১,০০,০০,০০১/- থেকে ৫,০০,০০,০০০/- পর্যন্ত ৫০,০০০/-
৫,০০,০০,০০১/- থেকে ২০,০০,০০,০০০/- পর্যন্ত ৬০,০০০/-
২০,০০,০০,০০১/- থেকে ৫০,০০,০০,০০০/- পর্যন্ত ৭০,০০০/-
৫০,০০,০০,০০১/- থেকে ১০০,০০,০০,০০০/- পর্যন্ত ৮০,০০০/-

রপ্তানি লাইসেন্সের ফি সাধারণত আমদানি লাইসেন্সের চেয়ে ভিন্ন হয় এবং এটি রপ্তানিকারকের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশের আমদানি নীতি ও নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশের আমদানি নীতি মূলত আমদানি নীতি আদেশ (Import Policy Order – IPO) দ্বারা পরিচালিত হয়, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হয়। এই নীতি আদেশ আমদানি প্রক্রিয়ার পদ্ধতি, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক কাঠামো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর (CCIE) এই নীতি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

শিল্প গ্রাহকদের জন্য, আইআরসি (IRC) নির্দিষ্ট পণ্যের সর্বোচ্চ আমদানি মূল্য (Import Entitlement) নির্ধারণ করে, যা কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতির আমদানি নিরীক্ষণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থা দেশের শিল্পোন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যারিস্টার মেহেরুবা মাহবুবের সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স কেন প্রয়োজন?

উত্তর: বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনার জন্য আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স (IRC/ERC) আইনত বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া কোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করা সম্ভব নয়।

IRC এবং ERC এর মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তর: IRC (Import Registration Certificate) আমদানি ব্যবসার জন্য এবং ERC (Export Registration Certificate) রপ্তানি ব্যবসার জন্য প্রয়োজন। IRC-এর ক্ষেত্রে আমদানির একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে, কিন্তু ERC-এর ক্ষেত্রে রপ্তানির কোনো সীমা থাকে না।

অনলাইনে কিভাবে আবেদন করব?

উত্তর: আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে একটি ইউজার আইডি তৈরি করে, প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে এবং সকল কাগজপত্র পিডিএফ আকারে আপলোড করে অনলাইনে আবেদন করা যায়। ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়।

লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া কি?

উত্তর: আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স সাধারণত প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এবং প্রয়োজনীয় হালনাগাদ কাগজপত্র জমা দিয়ে অনলাইনে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা যায়।

কোন ধরনের পণ্য আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ?

উত্তর: বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট পণ্য আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত। যেমন, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য, এবং কিছু বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ। বিস্তারিত জানতে আমদানি নীতি আদেশ দেখতে হবে।

আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পেতে কত খরচ হয়?

উত্তর: আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স এর খরচ আমদানির সীমা এবং লাইসেন্সের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে। উপরে প্রদত্ত সারণীতে আমদানি লাইসেন্সের ফি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

একক ব্যক্তি কি আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স পেতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ, একক ব্যক্তি বা প্রোপ্রাইটরশিপ ফার্মও আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

উপসংহার

বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসা শুরু করার জন্য আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জটিল আইনি দিকগুলি সঠিকভাবে বুঝতে এবং সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ অপরিহার্য। ব্যারিস্টার মেহেরুবা মাহবুব এবং তার দল আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত সকল আইনি বিষয়ে আপনাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। যেকোনো আইনি পরামর্শ বা সহায়তার জন্য আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

Written by

Related Posts

0 Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *